বুধবার, ০৬ জুলাই ২০২২

মক্কা-মদিনায় বাংলাদেশি রেস্তোরাঁ ও আবাসিক হোটেল

শেয়ার করুন

বাংলাদেশ থেকে প্রতি বছর অনেক ধর্মপ্রাণ মুসলমান হজ পালনের জন্য সৌদি আরবের মক্কা-মদিনা ও মিনা-আরাফাত প্রান্তরে যান। হজের সময় ২০ থেকে ৪০ দিন ছোটাছুটির মধ্যে থাকেন তারা। দীর্ঘপথে হাঁটাহাঁটি ও নামাজ আদায় করতে হয় তাদের। তাই চাহিদার তুলনায় কিছুটা বেশি প্রয়োজনীয় ক্যালরিযুক্ত খাবার খেতে হবে।

মদিনায় বেশকিছু বাংলাদেশি হোটেল আছে। তারমধ্যে মদিনার গোল্ডেন ঢাকা হোটেল সবথেকে জনপ্রিয় হজ যাত্রীদের কাছে বিশেষ করে বাংলাদেশী হজ যাত্রীদের কাছে। গোল্ডেন ঢাকা হোটেলের স্বত্বাধিকারীর নাম মোঃ আবু বকর সিদ্দিক। তার বাড়ি বাংলাদেশের চট্টগ্রামে। মদিনায় বাঙ্গালীদের জন্য খুব সুনামধন্য গোল্ডেন ঢাকা হোটেল। এখানে খাবারের মান অত্যন্ত ভালো। এসব হোটেলে ভাত, দেশীয় পদ্ধতিতে রান্না করা সামুদ্রিক মাছের তরকারি, মাংস, সবজি, ডালসহ সব ধরনের বাঙালি খাবার পাওয়া যায়। হোটেল থেকে পার্সেলে একজনের খাবার কিনলে বাড়িতে বসে অনায়াসে দু’জন খাওয়া যায়। গরুর গোস্ত, সবজি ডাল প্যাকেজ মূল্য একেবারেই সাধ্যের মধ্যে। যোগাযোগ: মোবাইল নম্বর: +৯৬৬০৫৫২০১৫১০০-০৫৪০৯৮৯৪৯১-০৫৮০৩১০০৪০।


এছাড়াও অন্যান্য রেস্তোরাঁগুলোর মধ্যে রয়েছে এশিয়া, চট্টগ্রাম, জমজম ইত্যাদি।

পাইকারি দামে বাংলাদেশি সবজি, ফল বা মাছ কিনতে চাইলে যেতে হবে মক্কার নাক্কাসা এলাকায়। মক্কার মসজিদুল হারাম থেকে ইব্রাহিম খলিল রোড ধরে দুই কিলোমিটার দূরেই নাক্কাসা। সেখান থেকে সবকিছু সুলভে কার্টন ধরে কিনতে হয়।এই বাজারে কেনাকাটার সময় চট্টগ্রামের আঞ্চলিক ভাষা ব্যবহার করা যাবে।

নাক্কাসার রাস্তাঘাট, ফুটপাতের দোকান, কাঁচাবাজার, হোটেলগুলো বাংলাদেশের মতোই। কাঁচাবাজারে দেশি মাছ, সামুদ্রিক মাছ, মাংস, আলু, বেগুন, পটোল, লতি, ধনেপাতা, ঝিঙে, কাচামরিচ, ফুলকপি, পাতাকপি, মিষ্টি কুমড়া, লাউসহ বিভিন্ন ধরনের শাকসবজি মেলে। নিত্যপ্রয়োজনীয় সবই এখানে পাওয়া যায়। সেগুলো একেবারে দেশি। দোকানদাররা সবাই বাংলাদেশি। বাজারে বড় বড় মুরগি পাওয়া যায়। কেটে পরিষ্কার ও টুকরো করে দেওয়া হয়। প্রতিটি মুরগির মূল্য ১০ রিয়াল।

মদিনায় বাঙালি হাজীদের জন্য রয়েছে অসংখ্য আবাসিক হোটেল। এরমধ্যে হোটেল দার আল রাহমানা খুব প্রশংসনীয়। এই হোটেলের প্রতিটি রুমে চারটি করে সিট এবং আছে এসির সুব্যবস্থা। হজ মৌসুমে উক্ত হোটেলের রুমের ভাড়া ১০০ রিয়াল থেকে ২০০ রিয়াল পর্যন্ত হয়। এবং হজের পরে এই রুম ৫০০ থেকে ৬০০ রিয়াল পর্যন্ত ভাড়ায় দেওয়া হয়। উক্ত হোটেলের স্বত্বাধিকারীর নাম আবুল কাশেম বাড়ি। তার বাড়ি বাংলাদেশের চট্টগ্রাম। মদিনায় তার যোগাযোগ জন্য মোবাইল নাম্বারটি হলো +৯৬৬৫৬ ০৫০ ৭৩৮৩।

হজের সময় প্রচুর পানি, জুস, দুধসহ পানীয় পান করা উচিত। কারণ অত্যধিক পরিশ্রম, গরম ও শুষ্ক আবহাওয়ার কারণে দেহে পানিস্বল্পতা দেখা দিতে পারে। প্রতিদিন আড়াই থেকে তিন লিটার পানি বা পানীয় গ্রহণ করতে হবে। মক্কা-মদিনায় প্রচুর ফলমূল ও ফলের রস পাওয়া যায়। এগুলো কিনে খেতে পারেন যে কেউ। আরাফাতের ময়দানে অনেক প্রতিষ্ঠান বিনামূল্যে খাবার, জুস, ফল ইত্যাদি দিয়ে থাকে। ওইসব খাবার আনতে গিয়ে ধাক্কাধাক্কি হয়। তাই সাবধান থাকা প্রয়োজন। কাবা শরিফ ও মসজিদে নববির ভেতরে কিছুদূর পরপর জমজম পানি (স্বাভাবিক ও ঠাণ্ডা) খাওয়ার ব্যবস্থা রয়েছে। চাইলে প্রাণভরে জমজম পানি পান করা যায়।

আনুষঙ্গিকতার জন্য অনেক সময় ঘণ্টার পর ঘণ্টা গাড়িতে অবস্থান করতে হয়। সেক্ষেত্রে সঙ্গে রাখতে পারেন কেক, বিস্কুট, কলা, আপেল, নাশপাতি, খেজুর, কিশমিশ, আলুবোখারা, শুকনা মিষ্টি, বাদাম, জুস, দুধ ইত্যাদি। সকালে নাশতার জন্য রাতের বাসি খাবার বাঁচিয়ে রাখার চিন্তা করবেন না। নাশতার জন্য পাউরুটি জাতীয় শুকনা খাবার রাখতে পারেন।

যাদের ভাত-রুটি কম খাওয়ার অভ্যাস আছে তারা মাছ, মাংস, ডাল, দুধ অর্থাৎ আমিষ জাতীয় খাবার একটু বেশি খাবেন। যাদের ডায়াবেটিস আছে তারা সঙ্গে রাখতে পারেন চিড়া ভাজা, মুড়ি, ভুট্টার খই, ডায়াবেটিস বিস্কুট, দুধ ইত্যাদি। হাইপোগ্লাইসেমিয়ার আশঙ্কা থাকলে সঙ্গে জুস রাখতে পারেন।

মক্কার পথে পথে পানবিক্রেতা চোখে পড়বে। দুই বা তিন খিলি পানের দাম পড়বে ১ রিয়াল। মদিনায় বাঙালিদের অবস্থান যেখানে, সেখানে মুড়িসহ বাংলাদেশের অনেক খাদ্যপণ্য পাওয়া যায়। মক্কা-মদিনায় অনেক বাংলাদেশি কাজ করেন, তাই ভাষাগত কোনও সমস্যা হওয়ার কথা নয়। কেনাকাটার সময় দরদাম করে কেনা ভালো। এছাড়া হিন্দি ভাষা প্রায় সবাই বোঝেন। প্রয়োজনে কাজে লাগবে।

উট, দুম্বা, গরু, খাসির মধ্যে উটের মাংসে চর্বির আনুপাতিক হার কম। সুতরাং তারা উটের মাংস অনায়াসে খেতে পারেন। তাদের খাসি ও দুম্বার মাংস পরিহার করা উচিত। এছাড়া চর্বির অংশ বাদ দিয়ে ঝোল ছাড়া গরুর মাংস খাওয়া যাবে। কোরবানি বা দম দেওয়ার জন্য ইসলামি উন্নয়ন ব্যাংকের (আইডিবি) সৌদি সরকারের স্বীকৃত ব্যবস্থা। এতে সময় যেমন বাঁচে, তেমনই নিরাপদ। এর বাইরে টাকা দেওয়া হলে প্রতারিত হওয়ার আশঙ্কা থাকে।

দেশে থাকাকালীন হজ প্যাকেজের সুবিধাদি যেমন মক্কা-মদিনায় থাকা, খাওয়া, কোরবানিসহ অন্য সুবিধার কথা হজ এজেন্সির কাছ থেকে লিখিতসহ খুব ভালোভাবে বুঝে নিতে হবে। এরপর সৌদি আরব গিয়ে তা মিলিয়ে দেখা দরকার। অনেক সময় দেখা যায়, কোনও কোনও মোয়াল্লেম হাজিদের অনেকের নাশতার দায়িত্ব নেন না। এ কারণে মক্কা-মদিনায় গিয়ে তারা বেশ বিপাকে পড়েন। ট্রাভেল এজেন্সি যথাযথ সুবিধাদি (দেশ থেকে থাকা-খাওয়াসহ অন্য যেসব সুবিধার কথা বলেছিল) না দিলে মক্কা ও মদিনার বাংলাদেশ হজ মিশনকে জানানো দরকার। এরপরও সন্তুষ্ট না থাকলে সৌদির ওয়াজারাতুল হজকে (হজ মন্ত্রণালয়) লিখিত অভিযোগ করা যায়।

শেয়ার করুন »

লেখক সম্পর্কে »

মন্তব্য করুন »

Translate »