ভাষা আন্দোলন ও দক্ষতা বিকাশ


বাংলাদেশের কণ্ঠ ডেস্ক প্রকাশের সময় : ফেব্রুয়ারী ২১, ২০২৪, ৭:৪৫ অপরাহ্ন /
ভাষা আন্দোলন ও দক্ষতা বিকাশ

:: হাজী মোঃ আমিনুল ইসলাম ::

বাংলাদেশের ভাষা আন্দোলনের ঐতিহ্য এখন সারা বিশ্বের সাংস্কৃতিক সম্পদে পরিণত হয়েছে। একুশে ফেব্রুয়ারি এখন সারা বিশ্বেই আন্তর্জাতিক মাতৃভাষা দিবস হিসেবে পালন করা হচ্ছে। প্রতিটি মানুষ তার মুখের ভাষা মায়ের কাছ থেকেই শেখে। এরপর স্কুল এবং সামাজিক পরিবেশে মাতৃভাষায় চর্চা করার সুযোগ মেলে। আন্তর্জাতিক ভাষা হিসেবে ইংরেজি ভাষার চর্চাও আজকাল শিশুবেলা থেকেই সব দেশেই হচ্ছে। বাংলাদেশেও বাংলা ভাষা ও নানা সম্প্রদায়ের মাতৃভাষা চর্চার নানা সুযোগ সৃষ্টি করা হচ্ছে। ইংরেজি ভাষার চর্চাও স্কুল পর্যায় থেকেও করা হচ্ছে। সংখ্যার বিচারে ভাষা চর্চা যথেষ্ট হলেও গুণমানের চর্চা খুব বেশি হচ্ছে সে কথা বলা মুশকিল। আজকাল শিশুরাও ডিজিটাল মাধ্যমে প্রায়ই বুঁদ হয়ে থাকে। নতুন বই পাঠের আগ্রহ বাড়ানোর চেষ্টা পরিবার ও সমাজ থেকে সেভাবে হচ্ছে বলে মনে হয় না। অবশ্য, বইমেলায় শিশুদের নির্ধারিত দিনে স্বাগত জানানোর উদ্যোগটি প্রশংসার দাবি রাখে। শিশু-কিশোর ছাড়াও পুরো জনগোষ্ঠীকে ভাষা চর্চার গুরুত্ব বোঝানোর প্রয়োজন রয়েছে। একই সঙ্গে বাংলা ভাষার মর্যাদা রক্ষার জন্য প্রতিবাদী তরুণরা কেন অকাতরে প্রাণ দিল তার প্রেক্ষাপট নিয়েও নিবিড় চর্চা জরুরি হয়ে পড়েছে। প্রধানত অস্তিত্ব রক্ষা এবং আত্মপরিচয়ের তাগিদ থেকে আন্দোলনে অংশগ্রহণকারীদের মধ্যে এমন এক ধরনের ঐক্য গড়ে ওঠে যার ফলে ভাবাদর্শগতভাবে একটি সামাজিক সমঝোতা তৈরি হয়।

হয়ে ভিন্ন ভাষায় নাজিল হতো, তাহলে নিজেদের উম্মতদেরকে দীনের আলোর দিকে আহ্বান করা নবি-রাসুলদের জন্য অনেক কঠিন হয়ে যেত।

একেক জাতির জন্য একেক ভাষা সৃষ্টি করা এটা আমাদের ওপর আল্লাহ তাআলার বিশেষ কৃপা। আর না হয় মানুষ ভাষার মর্যাদা বুঝত না। মানুষের ভাষা ও বর্ণের বিভিন্নতার সাথে তার উন্নতি অঙ্গাঙ্গীভাবে জড়িত।

তাই কোনো ভাষাকে হেয় জ্ঞান করা, তুচ্ছ-তাচ্ছিল্য করা মোটেও ঠিক নয়। কেননা, সব ভাষার স্রষ্টাও আল্লাহতাআলাই। তার সৃষ্টির অবমূল্যায়ন করা তার প্রতি অসম্মান প্রদর্শনেরই নামান্তর।

বিদায় হজের ভাষণে মহানবী (সা.) কত চমৎকারভাবেই না বলেছেন, ‘কালোর ওপর সাদার প্রাধান্য নেই, অনারবের ওপর আরবের শ্রেষ্ঠত্ব নেই।’ (বুখারি)

মহানবি সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লামের ছিলেন আরবের সবচেয়ে সুন্দর ও শুদ্ধভাষী। তিনি কোনোদিন একটি অশুদ্ধ বা বিকৃত শব্দ বা বাক্য উচ্চারণ করেছেন বলে পাওয়া যায় না।

আল্লাহতাআলা পবিত্র কুরআনের ইরশাদ করেন: ‘আর তার নিদর্শনাবলীর মাঝে রয়েছে আকাশসমূহের ও পৃথিবীর সৃজন এবং তোমাদের ভাষা ও রঙের বিভিন্নতাও। নিশ্চয় এতে জ্ঞানীদের জন্য অনেক নিদর্শন রয়েছে।’ (সুরা আর রূম, আয়াত: ২২)

ভাষা ও রঙের এই বিভিন্নতা সুপরিকল্পিত, যার পশ্চাতে পরিকল্পনাকারীর অস্তিত্ব বিদ্যমান। আকাশ মালা ও বিশ্বজগত সেই পরিকল্পনাকারীর সৃষ্টি। বর্ণের ও ভাষার বিভিন্নতার ফলে বিভিন্ন সভ্যতা ও সংস্কৃতির আগমন-নির্গমন ঘটে চলেছে। কিন্তু তবুও এই বিভিন্নতার অন্তরালে স্থায়ীভাবে প্রবাহমান রয়েছে একটি বিশাল একতা ও মানবতার ঐক্য।

লেখক: সম্পাদক ও প্রকাশক, দৈনিক বাংলাদেশের কণ্ঠ