পেন্টাগনকে টপকে বিশ্বের বৃহত্তম অফিসভবন এখন ভারতে


বাংলাদেশের কণ্ঠ ডেস্ক প্রকাশের সময় : জুলাই ১৯, ২০২৩, ৯:১৪ অপরাহ্ন /
পেন্টাগনকে টপকে বিশ্বের বৃহত্তম অফিসভবন এখন ভারতে

এতদিন বিশ্বের বৃহত্তম অফিস ভবন হিসেবে স্বীকৃত ছিল যুক্তরাষ্ট্রের প্রতিরক্ষা মন্ত্রণালয়ের সদর দপ্তর পেন্টাগন। সেই পেন্টাগনকে টপকে এবার বিশ্বের বৃহত্তম অফিস ভবন নির্মাণের রেকর্ডটি নিজেদের দখলে নিয়েছে ভারত।

ভারতের পশ্চিমাঞ্চলীয় রাজ্য গুজরাটের সুরাট শহরে অবস্থিত এই অফিস ভবনটির নাম সুরাট ডায়মন্ড ব্যুরো। ভবনটির বিভিন্ন তলায় হীরা ও অন্যান্য মূল্যবান পাথর কাটার কার্যালয় এবং ভারতের প্রথম সারির সব জুয়েলারি কোম্পানির শোরুম স্পেস রয়েছে।

যুক্তরাষ্ট্রের ভার্জিনিয়ায় অবস্থিত পেন্টাগনের মোট আয়তন যেখানে ৬০ লাখ ৫০ হাজার বর্গফুট, সেখানে সুরাট ডায়মন্ড ব্যুরোর আয়তন ৭০ লাখ ১০ হাজার বর্গফুট, উচ্চতা ২৬৪ দশমিক ৭ ফুট। দিল্লিভিত্তিক ভবন নির্মাণ কোম্পানি মরফোজেনেসিসের তত্ত্বাবধানে নির্মিত ১৫ তলার এই ভবনটি নির্মানে ব্যয় হয়েছে ৩ কোটি ৮০ হাজার ডলার।

এখন উদ্বোধনের অপেক্ষায় রয়েছে সুরাট ডায়মন্ড ব্যুরো। শিগগিরই প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি ভবনটি উদ্বোধন করবেন বলে আশা করা হচ্ছে।

সুরাট শহরটি মূলত হীরা বেচাকেনা ও হীরা কাটা ও পালিশ শিল্পের জন্য বিখ্যাত। পৃথিবীর ৯০ ভাগ হীরা ও অন্যান্য মূল্যবান পাথর কাটা হয় এই শহরে। মরফোজেনেসিসের সহপ্রতিষ্ঠাতা সোনালী রাস্তোগি আমিরাতভিত্তিক দৈনিক দ্য ইন্টারন্যাশনালকে জানান, সুরাটের হীরা ব্যবসায়ীদের জন্যই তৈরি করা হয়েছে ভবনটি।

সোনালি রাস্তোগি বলেন, ‘বর্তমানে বিশ্বের বৃহত্তম অফিস ভবন এই সুরাট ডায়মন্ড ব্যুরো। ভবনটিতে হীরা কাটা, পালিশ করা ও হীরা ক্রয়বিক্রয়ের সঙ্গে সংশ্লিস্ট ৪ হাজার ৭০০টিরও বেশি প্রতিষ্ঠানের কার্যালয়। প্রতিটি কার্যালয়ের আয়তন ৩০০ বর্গফুট থেকে ২৫ হাজার বর্গফুটের মধ্যে। অন্তত ৬৫ হাজার কর্মী এই ভবনটিতে কাজ করতে পারবেন।’

ভবনটির মেঝেগুলো মার্বেল পাথর দিয়ে তৈরি। আগত লোকজনের জন্য বিভিন্ন তলায় বসা, বিশ্রাম ও খাওয়াদাওয়ার সুযোগ-সুবিধাও রয়েছে।

দ্য ন্যাশনালকে সোনালি বলেন, ‘সুরাট ডায়মন্ড বোর্ড এই ভবনটির মালিক। ভবনটি নির্মাণের জন্য তারা আন্তর্জাতিক দরপত্রের ডাক দিয়েছিল। আমরা সেই প্রতিযোগিতা জিতে ভবন নির্মানের এই চুক্তিটি পেয়েছি।’

‘মোট সাড়ে পাঁচ বছর লেগেছে ভবনটির নির্মাণ শেষ করতে। যে নকশা অনুসারে আমরা নির্মাণকাজ শুরু করেছিলাম, তাতে এটি বিশ্বের বৃহত্তম অফিস ভবন হওয়ার কথা ছিল না। পরে ডায়মন্ড বোর্ডের সদস্যদের সুপারিশ অনুযায়ী নকশায় কিছু পরিবর্তন আনা হয়, ভবনটির আয়তনও বাড়ে।’

ভারতের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদির জন্ম ও বেড়ে ওঠা গুজরাটে। বুধবার এক টুইটবার্তায় সুরাটের হীরা শিল্পের সঙ্গে সংশ্লিষ্টদের অভিনন্দন জানিয়ে মোদি বলেন, ‘সুরাটের হীরা শিল্পের উন্নতি ও সমৃদ্ধির প্রতীক এই ভবন। এটি একই সঙ্গে ভবন নির্মাণকাজে ভারতের সক্ষমতারও নিদর্শন।