স্বামী-সন্তান রেখে প্রেমিকের বাড়িতে গৃহবধূ, গর্ভপাতের পর বিদেশে প্রেমিক


বাংলাদেশের কণ্ঠ ডেস্ক প্রকাশের সময় : অগাস্ট ২৯, ২০২৬, ৪:৪২ অপরাহ্ন /
স্বামী-সন্তান রেখে প্রেমিকের বাড়িতে গৃহবধূ, গর্ভপাতের পর বিদেশে প্রেমিক

বিয়ের প্রলোভনে পড়ে নিজের স্বামী ও সন্তানকে পেছনে ফেলে প্রেমিকের হাত ধরেছিলেন এক গৃহবধূ। তবে ভালোবাসার মূল্য দিতে গিয়ে হারিয়েছেন নিজের সংসার ও সন্তানকে, আর বিনিময়ে পেয়েছেন প্রতারণা, শারীরিক শোষণ ও জোরপূর্বক গর্ভপাত। সবশেষে প্রেমিক তাকে ফেলে বিদেশে পাড়ি জমালে কুলহারা সেই তরুণী বিয়ের স্বীকৃতি ও সামাজিক মর্যাদার দাবিতে প্রেমিকের বাড়িতে গিয়ে অবস্থান নিয়েছেন।

শুক্রবার (২৮ আগস্ট) সকালে সাতক্ষীরার কলারোয়া উপজেলার কেড়াগাছি গ্রামে এ ঘটনাটি ঘটে। অভিযুক্ত তরুণের নাম মনিরুল ইসলাম, তিনি ওই গ্রামের আশা গাজীর ছেলে। ভুক্তভোগী তরুণী (২০) একই উপজেলার ৪নং লাঙ্গলঝাড়া ইউনিয়নের বাসিন্দা।

স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, প্রায় দুই বছর আগে মনিরুল ইসলামের সঙ্গে ওই তরুণীর প্রেমের সম্পর্ক গড়ে ওঠে। প্রেমের সম্পর্কের টানে নিজের স্বামী-সন্তান ও সংসার ছেড়ে মনিরুলের ওপর আস্থা রাখেন তিনি। ভুক্তভোগীর অভিযোগ, একাধিকবার তাকে বিয়ের প্রতিশ্রুতি দিয়ে দেশের বিভিন্ন স্থানে নিয়ে যাওয়া হয় এবং জোরপূর্বক শারীরিক সম্পর্ক গড়ে তোলা হয়। এরই একপর্যায়ে তরুণী অন্তঃসত্ত্বা হয়ে পড়েন। গত বছর (২৪ মে) সাতক্ষীরার স্বপ্না ক্লিনিক অ্যান্ড আকসা ডায়াগনস্টিক সেন্টারে স্বাস্থ্য পরীক্ষা করালে গর্ভধারণের বিষয়টি নিশ্চিত হওয়া যায়।

বিষয়টি জানাজানি হলে মনিরুল ও তার পরিবার কাজী ডেকে আনুষ্ঠানিকভাবে বিয়ের আশ্বাস দেয়। কিন্তু অভিযোগ রয়েছে, বিয়ের কথা বলে তাকে সাতক্ষীরার একটি ক্লিনিকে নিয়ে গিয়ে চতুরতার সঙ্গে তার গর্ভপাত ঘটানো হয়। গর্ভপাতের পর বিয়ের কথা সম্পূর্ণ অস্বীকার করেন মনিরুল। একপর্যায়ে ভুক্তভোগী তরুণীকে চরম বিপদে ফেলে এবং প্রতারণার আশ্রয় নিয়ে গোপনে বিদেশে চলে যান তিনি। আগের সংসারে ফেরার পথ বন্ধ, আর নতুন সম্পর্কের এই নির্মম পরিণতির পর অসহায় অবস্থায় বিচারের আশায় স্থানীয়দের দ্বারে দ্বারে ঘুরতে থাকেন ওই তরুণী।

অবশেষে কোনো উপায় না পেয়ে শুক্রবার সকাল সাড়ে ১১টার দিকে বিয়ের স্বীকৃতি ও ন্যায়বিচারের দাবিতে মনিরুলের কেড়াগাছির বাড়িতে গিয়ে অনশন ও অবস্থান নেন তরুণী। খবরটি ছড়িয়ে পড়লে এলাকায় ব্যাপক চাঞ্চল্যের সৃষ্টি হয় এবং স্থানীয় উৎসুক জনতা মনিরুলের বাড়ির সামনে ভিড় জমায়।

পরিস্থিতি সামাল দিতে মনিরুলের পরিবার স্থানীয় এক সাবেক ইউপি সদস্য ও গণ্যমান্য ব্যক্তিদের ডেকে আনে। পরবর্তীতে মাতব্বর ও স্থানীয় জনপ্রতিনিধিরা মনিরুল দেশে ফিরলে বৈঠকের মাধ্যমে বিষয়টি সুষ্ঠু সমাধানের আশ্বস্ত করলে তরুণী সাময়িকভাবে অবস্থান ত্যাগ করেন।

কান্নাজড়ানো কণ্ঠে ভুক্তভোগী বলেন, মনিরুলের কথা শুনে আমি আমার স্বামী ও সন্তানের সংসার নষ্ট করেছি। ও আমার সবকিছু শেষ করে এখন গোপনে বিদেশে পালিয়ে গেছে। সে যদি দেশে ফিরে আমাকে স্ত্রীর মর্যাদা না দেয়, তবে আমার আত্মহত্যা করা ছাড়া আর কোনো পথ থাকবে না।

এ বিষয়ে জানতে চাইলে কলারোয়া থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) মিজানুর রহমান রিমু জানান, বিষয়টি সম্পর্কে লোকমুখে শুনেছি, তবে এখন পর্যন্ত ভুক্তভোগী বা অন্য কোনো পক্ষ লিখিত অভিযোগ দেয়নি। লিখিত অভিযোগ পেলে তদন্ত সাপেক্ষে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।