
চট্টগ্রামে আন্তঃজেলা বাস শ্রমিক ইউনিয়নের নির্বাচনকে কেন্দ্র করে সড়ক অবরোধ করেন শ্রমিকরা। মঙ্গলবার বিকাল ৪টা থেকে সন্ধ্যা ৭টা পর্যন্ত নগরীর কদমতলী এলাকায় সড়ক অবরোধ করে বিক্ষোভ করেন তারা।
এদিন নগরীর হালিশহর থানাধীন এয়াকুব আলী স্কুলসংলগ্ন দুলহান কমিউনিটি সেন্টারে শ্রমিক সংগঠনটির ভোটগ্রহণ চলছিল। সেখানে দুইপক্ষের সংঘর্ষে এক পথচারীসহ দুইজন আহত হয়েছেন। অথচ ঘটনাস্থলে এক শ্রমিক নিহত হয়েছেন- এমন গুজব ছড়ানো হয়।
এই খবরে কদমতলী এলাকায় রেলগেট এলাকায় দুই পাশের সড়কে যান চলাচল বন্ধ করে দেওয়া হয়। এতে দুর্ভোগে পড়েন সাধারণ মানুষ। সন্ধ্যা ৭টার পর পুলিশ বিক্ষোভকারীদের বুঝিয়ে সড়ক থেকে সরিয়ে দিলে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আসে।
শ্রমিকরা জানান, নির্বাচনে ভোটার ছিল ৩ হাজার ৫৬১ জন। মঙ্গলবার সকাল থেকে নগরীর হালিশহর থানাধীন দুলহান কমিউনিটি সেন্টারে নির্ধারিত সময়ের ভোটগ্রহণ শুরু হয়। তবে ভোটগ্রহণের জন্য ভোটারদের নম্বর অনুযায়ী আলাদা বুথ করার কথা থাকলেও তা সঠিকভাবে করা হয়নি। ফলে সকাল থেকেই ভোটকেন্দ্রে দীর্ঘ জটলা ও বিশৃঙ্খলা তৈরি হয়। এতে বয়স্ক ও শারীরিকভাবে অসুস্থ শ্রমিকদের ভোট দিতে গিয়ে ভোগান্তিতে পড়তে হয়েছে।
বিকালের দিকে অনেক শ্রমিক ভোট দিতে গেলে তাদের জানানো হয়, ব্যালট পেপার শেষ হয়ে গেছে। এতে অন্তত ১০০ থেকে ১৫০ জন ভোটার ভোট দিতে পারেননি। এ নিয়ে দুইপক্ষের মধ্যে বাগবিতণ্ডা ও হট্টগোল শুরু হয়। এ সময় স্থানীয় বিএনপি ও অঙ্গ সংগঠনের নেতারা কমিউনিটি সেন্টারের ভেতর থাকা ব্যালটে আগুন জ্বালিয়ে দিলে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণের বাইরে চলে যায়।
একটি ভিডিওতে দেখা যায়, দুলহান কমিউনিটি সেন্টারের ভেতরে ব্যালট পোড়ানো হচ্ছে। এতে নেতৃত্ব দেন ১২নং ওয়ার্ড বিএনপির সভাপতি খাজা আলাউদ্দিন, সদস্য সচিব ফখরুল ইসলাম রাজু ওরফে মাইকেল রাজু ও সিনিয়র সহ-সভাপতি মজিবুর রহমান মজু। অথচ তারা শ্রমিক সংগঠনের কোনো পদেই নেই।
জানতে চাইলে ১২নং ওয়ার্ড বিএনপির সভাপতি খাজা আলাউদ্দিন বলেন, আমি দলীয় দায়িত্ববোধ থেকে সেখানে গিয়েছিলাম। ভেতরে ঢুকে প্রয়োজনীয় বুথ না থাকাসহ নানারকম বিশৃঙ্খলা দেখতে পাই। পরে নির্বাচন কমিশনারকে বলার পর দুই প্যানেলের সঙ্গে কথা বলে ভোট স্থগিত করে দেন। এরপর কার স্বার্থে সড়ক অবরোধ বা বিক্ষোভ করা হয়েছে আমি বলতে পারি না।
আপনার মতামত লিখুন :