নতুন শিক্ষাক্রমে অনেক ঘাটতি থাকতে পারে : শিক্ষামন্ত্রী


বাংলাদেশের কণ্ঠ ডেস্ক প্রকাশের সময় : মার্চ ২৫, ২০২৩, ৭:০৩ অপরাহ্ন /
নতুন শিক্ষাক্রমে অনেক ঘাটতি থাকতে পারে : শিক্ষামন্ত্রী

শিক্ষামন্ত্রী ডা. দীপু মনি বলেছেন, আমাদের নতুন শিক্ষাক্রম শুরু হয়েছে। একটা নতুন শিক্ষাক্রম চালু করতে হলে অনেক কিছু করতে হয়। সেখানে অনেক ঘাটতি ও অনেক সমস্যা থাকতে পারে। কিন্তু এই শিক্ষাক্রম চালু হয়েছে, এটি চলবে।

বৃহস্পতিবার (২৩ মার্চ) বিকেলে রাজধানীর শেরে বাংলা বালিকা মহাবিদ্যালয়ে বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের ম্যুরাল উদ্বোধন অনুষ্ঠানে তিনি এ কথা বলেন।

শিক্ষামন্ত্রী বলেন, কেউ কেউ মনে করছেন তাদের কোচিং ব্যবসা ক্ষতিগ্রস্ত হবে ও কোচিং ব্যবসা চলবে না। কেউ কেউ ভাবছেন তাদের নোট-গাইডের ব্যবসা চলবে না। সেই কারণে অনেকে নতুন শিক্ষাক্রমের বিরোধিতা করছেন। আমরা কিন্তু সেগুলোও লক্ষ্য রাখছি। নতুন কারিকুলাম থাকবে, নতুন শিক্ষাক্রম অনুযায়ী আমাদের শিক্ষার্থীরা ইনশাআল্লাহ জেনে-বুঝে প্রয়োগ করতে শিখে দক্ষ-যোগ্য মানুষ হবে। আমরা বিজ্ঞান ও প্রযুক্তির ওপর অনেক বেশি জোর দিচ্ছি। আমাদের মানবিক সৃজনশীল মানুষ হওয়া জরুরি। সেদিকেও আমরা জোর দিচ্ছি। সবচেয়ে বড় কথা হলো আমাদের শিক্ষার্থীরা যেন চিন্তা করতে শেখে ও সমাধান করতে শেখে।

তিনি বলেন, একটা কথা একেবারে স্পষ্ট করে বলে দিতে চাই- আওয়ামী লীগ তার জন্মমুহূর্ত থেকে আজ পর্যন্ত ইসলামবিরোধী বা ইসলামের সঙ্গে সাংঘর্ষিক কিছু করেনি, কোনোদিন করবেও না। কাজেই এই নতুন শিক্ষাক্রম নিয়ে যেসব অপপ্রচার হচ্ছে সেগুলো মিথ্যাচার। সেগুলো যারা করছে তারা চূড়ান্ত ইসলামবিরোধী কাজই করছে। কারণ মিথ্যাচার, অপপ্রচার ও গুজব রটানো এগুলো ইসলাম সমর্থন করে না। অতএব যারা ইসলামের দোহাই দিয়ে এগুলো করছেন তাদের প্রতিহত করতে হবে।

দীপু মনি বলেন, আমাদের এই দেশটা বঙ্গবন্ধু স্বাধীন করে দিয়েছিলেন। আমরা সেই দেশটাকে বঙ্গবন্ধুকন্যার নেতৃত্বে এগিয়ে নিয়ে যাওয়ার চেষ্টা করছি। এই দেশ আজকে ডিজিটাল বাংলাদেশ হয়েছে, আগামী দিনে স্মার্ট বাংলাদেশ হবে। যেখানে থাকবে স্মার্ট নাগরিক, স্মার্ট সরকার, স্মার্ট অর্থনীতি ও স্মার্ট সমাজ। আর এর কেন্দ্রে রয়েছে স্মার্ট নাগরিক। আর সেই স্মার্ট নাগরিক কিন্তু আপনারাই, আমাদের শিক্ষার্থীরাই। আপনারা স্মার্ট নাগরিক হবেন স্মার্ট শিক্ষার মাধ্যমে। সেই স্মার্ট শিক্ষার ব্যবস্থা করার জন্য আমরা নিরলসভাবে কাজ করে যাচ্ছি। কাজেই আপনারা সবাই পড়াশোনায় মনোযোগ দেবেন। এর বাইরে যে সহশিক্ষা কার্যক্রম আছে, সেই কাজে অংশগ্রহণ করবেন।

মন্ত্রী বলেন, নিজের দেশ, ভাষা, সংস্কৃতি, ঐতিহ্য, সাহিত্য- সবকিছুকে জেনে-বুঝে আত্মস্থ করে অন্তর্নিহিত শক্তি অনুধাবন করে সেই শক্তিতে বলীয়ান হয়ে আপনারা একেকজন স্মার্ট নাগরিক হয়ে সামনের দিকে এগিয়ে যাবেন, এই বাংলাদেশকে বঙ্গবন্ধুর সেনার বাংলাদেশে পরিণত করবেন। আমরা একাত্তরে সমস্ত অপশক্তিকে প্রতিহত করে যেমন করে স্বাধীনতা ছিনিয়ে এনেছিলাম, আগামী দিনেও ইনশাআল্লাহ যেকোনো অপশক্তি মাথাচাড়া দিয়ে ওঠার চেষ্টা করলে তাকে প্রতিহত করে, পরাভূত করে, পরাজিত করে নিশ্চয়ই জয়ী হব। এর মাধ্যমেই বঙ্গবন্ধুর সোনার বাংলাদেশ গড়ে তুলব ইনশাআল্লাহ।

অনুষ্ঠানে বিশেষ অতিথি হিসেবে বক্তব্য রাখেন ঢাকা-৬ আসনের সংসদ সদস্য বীর মুক্তিযোদ্ধা কাজী ফিরোজ রশীদ, ঢাকা শিক্ষা বোর্ডের চেয়ারম্যান তপন কুমার সরকার।