অনলাইন কেনাকাটায় অভিযোগ নিষ্পত্তির কেন্দ্রীয় প্ল্যাটফর্ম চালু


বাংলাদেশের কণ্ঠ ডেস্ক প্রকাশের সময় : ফেব্রুয়ারী ২০, ২০২৩, ১১:১৬ পূর্বাহ্ন /
অনলাইন কেনাকাটায় অভিযোগ নিষ্পত্তির কেন্দ্রীয় প্ল্যাটফর্ম চালু

আজকালের কন্ঠ ডেস্ক : অনলাইনে কেনাকাটায় প্রতারণা রোধে ভোক্তাদের নানা ধরনের অভিযোগ নিষ্পত্তিতে কেন্দ্রীয় অভিযোগ নিষ্পত্তি কেন্দ্র বা সিসিএমএস প্ল্যাটফর্ম চালু করেছে সরকার। গতকাল রোববার সচিবালয়ে এর উদ্বোধন করা হয়। অনুষ্ঠানে ই-কমার্সে কেনাকাটার ক্ষেত্রে ক্রেতাদেরও সতর্ক থাকার পরামর্শ দেন বাণিজ্যমন্ত্রী টিপু মুনশি। এ সময় তথ্য ও যোগাযোগপ্রযুক্তি প্রতিমন্ত্রী জুনাইদ আহমেদ পলকও উপস্থিত ছিলেন।

অনুষ্ঠানে জানানো হয়, এখন থেকে অনলাইন কেনাকাটায় কোনো ভোক্তা নিজেকে প্রতারিত মনে করলে প্ল্যাটফর্মে অভিযোগ জানাতে পারবেন। এর পর যাচাই-বাছাইয়ে সেই অভিযোগের প্রতিকারে উদ্যোগ গ্রহণ করবে বাণিজ্য মন্ত্রণালয়। অনলাইনে সিসিএমএস ডট গভ ডট বিডি (ccms.gov.bd) পোর্টালে গিয়ে নির্দিষ্ট প্রক্রিয়া মেনে একজন ভোক্তা ই-কমার্সসংক্রান্ত যে কোনো যৌক্তিক অভিযোগ উপস্থাপন করতে পারবেন।

অনুষ্ঠানে বাণিজ্যমন্ত্রী বলেন, বর্তমান প্রেক্ষাপটে সেন্ট্রাল কমপ্লেইন ম্যানেজমেন্ট সিস্টেমের (সিসিএমএস) খুবই দরকার ছিল। মানুষ ডিজিটাল প্ল্যাটফর্ম ব্যবহার করে যাতে না ঠকে, ক্ষতিগ্রস্ত না হয়- সে জন্য এই সিস্টেম চালু করা হলো। তথ্য ও যোগাযোগপ্রযুক্তি বিভাগের বিশেষজ্ঞ দল এটি চালু করতে ভূমিকা রেখে

প্রতিমন্ত্রী জুনাইদ আহমেদ পলক বলেন, ‘সিসিএমএস’ প্ল্যাটফর্মটির মূল দেখভালকারীর দায়িত্ব ভোক্তা অধিকার সংরক্ষণ অধিদপ্তরের। ২০১৮ সালে ই-কমার্স নিয়ে যখন সমস্যা দেখা দিয়েছিল, তখন প্রধানমন্ত্রীর আইসিটিবিষয়ক উপদেষ্টা সজীব ওয়াজেদ জয়ের নির্দেশনায় বেসিস, বাণিজ্য মন্ত্রণালয়, ই-ক্যাবসহ সবার সহযোগিতায় ডিজিটাল কমার্স নীতিমালা প্রণয়ন করা হয়। এর পর বঙ্গবন্ধুর আরেক দৌহিত্র রাদওয়ান মুজিব সিদ্দিক ববি ইউরোপের আদলে বাংলাদেশে একটি কেন্দ্রীয় অভিযোগ নিষ্পত্তি কেন্দ্র চালু করার পরামর্শ দেন। তাঁর পরামর্শেই সিসিএমএস প্ল্যাটফর্ম প্রস্তুত করা হয়েছে।

অনুষ্ঠানে জানানো হয়, নতুন এ প্ল্যাটফর্মটি ভোক্তা অধিকার সংরক্ষণ অধিদপ্তর, ই-কমার্স স্টেকহোল্ডার, নথি সিস্টেম এবং বিভিন্ন নিয়ন্ত্রক সংস্থার সঙ্গে স্বয়ংক্রিয়ভাবে সমন্বয় করে পরিচালিত হবে। প্রতিটি ই-কমার্স সাইটের সঙ্গে সিসিএমএস প্ল্যাটফর্মটি ইন্টিগ্রেটেড থাকবে। ফলে ভোক্তা খুব সহজেই এটি ব্যবহার করে অভিযোগ দিতে পারবেন। ভোক্তাদের মোবাইল নম্বর ভেরিফিকেশনের মাধ্যমে অভিযোগটি গ্রহণ করা হবে। ফলে কেউ হয়রানিমূলক অভিযোগ করলে ধরা পড়ে যাবেন। তবে অভিযোগের ক্ষেত্রে গ্রাহক সুনির্দিষ্ট প্রমাণ দাখিল করে সহজেই অভিযোগ জমা দিতে পারবেন।

অভিযোগ দায়েরের আগে সংশ্লিষ্ট ই-কমার্সে অভিযোগ করা হয়েছে কিনা এবং কোনো প্রতিকার পাওয়া গেছে কিনা- সেটি যাচাই করা হবে। গ্রাহক যে কোনো সময়ে তাঁর অভিযোগের বিস্তারিত ও অগ্রগতি জানতে পারবেন। অভিযোগ দায়ের হওয়ার পর সংশ্লিষ্ট ই-কমার্স প্রতিষ্ঠান সেটি সমাধানের চেষ্টা না করলে বা দুই পক্ষের মধ্যে মতের অমিল হলে সিস্টেম সেটি নিয়ন্ত্রক সংস্থাকে জানিয়ে দেবে।