
আরিফুল ইসলাম : সোহাগের মাটির ভাঁড়ের ২০ পদের চা সাড়া ফেলেছে ইতোমধ্যে। উঠতি বয়সের যুবক থেকে শুরু করে সবাই আসে সোহাগের মাটির ভাঁড়ের চা খেতে। বিকেলে ৫ টা থেকে রাত ২ টা অব্দি খোলা থাকে দোকান।
চায়ের প্রকারভেদে ৩০ টাকা থেকে শুরু করে ৪ শত টাকা দামে চা বিক্রি করেন তিনি।
সম্প্রতি ঢাকা -৩ আসনের সাংসদ ও বিদ্যুৎ জ্বালানি ও খনিজ সম্পদ প্রতিমন্ত্রী নসরুল হামিদ বিপু ও কেরানীগঞ্জ উপজেলার চেয়ারম্যান শাহীন আহমেদ এবং দক্ষিণ কেরানীগঞ্জ থানা আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক ম. ই মামুন তার চায়ের দোকানে এসে চা খেয়ে প্রসংশা করেছেন। তা সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমেও দেখেছেন লাখ লাখ দর্শক।
করোনার মুহুর্তে ইসলামপুরের ব্যবসা হারিয়ে দিশেহারা হয়ে পড়েন মোঃ সোহাগ হাসান। কোন কূলকিনারা করতে না পেড়ে জিনজিরা হাজী দিদার হোসেন সড়কে ৫ হাজার টাকা মূলধন নিয়ে ছোট্ট একটি ফাস্ট ফুডের দোকান এর পাশাপাশি চায়ের দোকান চালু করেন। প্রথম ছয় মাস লোকসান গুনতে হয় তাকে, তারপরও হাল ছাড়েনি সোহাগ হাসান। এ ব্যবসায় যে করে হউক টিকে থাকতে হবে, তা নাহলে তাকে রিকশা চালানো ছাড়া আর কোনো উপায় থাকবে না ভেবে। কলকাতার বন্ধুর সাথে এ বিষয় আলোচনা করলে তিনি উপায় বের করে দেন। কলকাতার বন্ধুর পিসাতো ভাই ভালো চা বানাতে পারে এবং তিনি ঐ মুহুর্তে বাংলাদেশের গুলসানে রয়েছে বলে জানান তিনি । তার কাছ থেকে চা বানানোর বিষয় প্রাথমিক প্রশিক্ষণ নিতে পরামর্শ দেন। সেখান থেকেই সোহাগ হাসান প্রশিক্ষণ নিয়ে এবং তার কাছে বিভিন্ন সময় ভিডিও কলে যোগাযোগ করে পাকাপোক্ত একজন চা শিল্প বুনে জান রীতিমতো।

এরইমধ্যে জিনজিরার হাজী দিদার হোসেন সড়কে উন্নয়ন কাজ শেষ হলে সাধারণ মানুষের চলাচল বেড়ে যায়। এতে করে তার চায়ের সুনাম ছড়াতে থাকে। তার চায়ের শুনামে একদিন মন্ত্রী চলে আসেন তার হাতে চা পান করতে ।
সোহাগ হাসান জানান, তিনি মমতা দিয়ে চা তৈরি করেন এবং নিজের হাতেই পরিবেশন করেন। কাস্টমার চায়ে চুমুক দেয়া মাত্রই জানতে চান কেমন হয়েছে চা।
তিনি বলেন, চা তৈরিতে দুধ ও মসলা ব্যবহার করেন তাতে তিনি ভেজাল করেন না এজন্যই তার চা খেতে সুস্বাদু।
সন্ধ্যা নামার সাথে সাথেই চা প্রিয় মানুষদের ভীর জমে যায় সোহাগের মাটির ভাঁড়ের চা খেতে। দুর-দুরান্ত থেকে মোটরসাইকেল করে এসে উঠতি বয়সের যুবক- যুবতীরা।
রাজধানীর মোহাম্মদপুর ধানমন্ডি এলাকা থেকে এসেছে কয়েকজন যুবক সোহাগের চা পান করতে। সোহাগের অন্য ব্যস্ততাও তাদের মধ্যে বিরক্ত আসেনি, তার হাতের চা পান করতে অপেক্ষা করলেন যুবকরা। তবে এই সড়কে সোহাগের দেখাদেখি আরও এই চায়ের দোকান গড়ে উঠেছে। প্রতিযোগিতা বাড়লেও তাদের প্রতি বিরক্ত নন সোহাগ। তার চিন্তা হচ্ছে এতে আরো জমজমাট হবে এই এলাকার ব্যবসা।
ব্যবসার শুরু থেকে সোহাগের পাশে সবসময়ই সময় দিয়েছেন দুটো লোক তার স্ত্রী সম্পা আক্তার ও শ্যালক শাকিল। এদের সহযোগিতা না থাকলে তিনি কখনোই এই ব্যবসা দাঁড় করাতে পারতেন না বলে জানান তিনি। এছাড়া তার কয়েক বন্ধু তাকে আর্থিকভাবে সহযোগিতা করেছেন। একটা সময় যিনি লোকসান দেখে হতাশ হয়ে রিকশা চালানো কথা ভাবছিলেন এখন তার দোকানে দুইজন কর্মচারী এবং আরো একটি দোকান চালু করছেন।
সোহাগ হাসান যেসব চা বিক্রি করেন, তাদের মধ্যে অন্যতম চা হচ্ছে বাটার টি। এছাড়া রয়েছে সবুজ পেস্তা,কাজু, কাঠ পেস্তা, হরলিক্স, পনির,চকলেট, তুরকি,আইসক্রিম, মালাই।
স্পেশাল চায়ের মধ্যে রয়েছে – সবুজ পেস্তা মালাই, কাজু বাদাম মালাই, পনির, ডরিও আইসক্রিম, নবাবি মালাই, ফায়ার টি, তুরকি’স নবাবি মালাই, কাস্মীরী নবাবি, জাফরান।
আপনার মতামত লিখুন :