
আজকালের কন্ঠ ডেস্ক : স্ত্রীর পরকিয়ার বিচার না পেয়ে শ্যালক আবু সাঈদকে অপরণ করে সজিব মিয়া। মঙ্গলবার (১৭ অক্টোবর) সন্ধ্যায় ব্রাহ্মণবাড়িয়ার আখাউড়ায় মুক্তিপনের টাকা নেওয়ার সময় অপহৃত শিশু আবু সাঈদ ও অপহরণকারী সজিব মিয়াকে আটক করে পুলিশ।
গত শনিবার বিকালে নারায়ণগঞ্জ জেলার আড়াইহাজার উপজেলার অছিতপুরা থেকে সোলমান মিয়ার শিশুপুত্র আবু সাঈদকে অপহরণ করে। সজিব নরসিংদী জেলার মনোহরদি উপজেলার দয়াগাঁও গ্রামের হারিছ মিয়ার ছেলে।
আখাউড়া থানা পুলিশ সূত্রে জানা গেছে, বিকালে অপহরণকারী সজিব সাঈদের বাবার কাছে কল করে মুক্তিপণের জন্য টাকা চায়। সাঈদের পরিবার টাকা পাঠানোর জন্য কৌশলে কিছু সময় চায়। পরে বিষয়টি আড়াই হাজার থানা পুলিশকে অবগত করেন। আড়াই হাজার থানা থেকে বিষয়টি আখাউড়া থানাকে জানানো হলে সাদা পোষাকে পুলিশে দোকানে অবস্থান নেয়। পরে অপহরণকারী টাকা উত্তোলন এলে পুলিশ তাকে আটক করে।
সজিব বলেন, আমার কাছে টাকা না থাকায় আমি তাদের কাছে এক হাজার টাকা পাঠাতে বলেছিলাম। মুক্তিপণ চাওয়ার কথা সে অস্বীকার করেছে।
আটক সজিব বলেন, চার বছর আগে আমি বিয়ে করি। বিয়ের পর থেকে আমার স্ত্রী আমার অগোচরে ঘর থেকে বের হয়ে যায়, পরকিয়া করে। আমার শশুড়-শাশুড়িকে জানালেও তারা কোন বিচার করে না। তাই তাদের সন্তানকে অপহরণ করি।
সাঈদের বাবা সোলমান মিয়া বলেন, চার মাস আগে আমার মেয়েকে তার কাছ থেকে সামাজিকভাবে সম্পর্ক শেষ করে নিয়ে আসি। তারপর সে আবার আমার মেয়েকে নিয়ে যায়। কিছুদিন আগে আমার মেয়েকে মারধর করে নাতিনকে রেখে তাড়িয়ে দেয়। পরে আমরা পুলিশ নিয়ে নাতিনকে নিয়ে আসি। এ ঘনটায় ক্ষুব্ধ হয়ে সে আমার ছেলেকে অপহরণ করে নিয়ে ৪ লাখ টাকা দাবি করে।
আখাউড়া থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) আসাদুল ইসলাম বলেন, মুক্তিপণের টাকা পাঠানোর জন্য আখাউড়া রাধানগরের একটি বিকাশ নম্বর দেয়। নারায়নগঞ্জের আড়াই হাজার থানা থেকে এমন একটি ঘটনা আমাদেরকে জানালে পুলিশ ওই দোকানে অবস্থান নিয়ে অপহরণকারীকে আটক করে। এ সময় অপহৃত শিশুটি উদ্ধার হয়। পরে তাদেরকে আড়াইহাজার থানা থেকে আসা পুলিশ সদস্যদের কাছে সোপর্দ করা হয়।
আপনার মতামত লিখুন :