বিবাহবহির্ভূত সম্পর্কে গর্ভধারণ, লন্ডন প্রবাসীর বাড়িতে হামলা আহত ২


বাংলাদেশের কণ্ঠ ডেস্ক প্রকাশের সময় : নভেম্বর ২৮, ২০২৪, ১২:৩২ অপরাহ্ন /
বিবাহবহির্ভূত সম্পর্কে গর্ভধারণ, লন্ডন প্রবাসীর বাড়িতে হামলা আহত ২

লন্ডন প্রবাসী শারমিন আক্তারের গ্রামের বাড়ীতে স্থানীয় ইমামের নেতৃত্বে উত্তেজিত মুসেল্লিরা একযোগে হামলা করে এবং বাড়িতে আগুন ধরিয়ে দেয়। এতে শারমিনের বাবা ও মা মারাত্মক ভাবে আহত হন। তিনি অশোকতলা এলাকার মোহাম্মাদ হিরন মিয়া ও ফেরদৌসী বেগমের পঞ্চম সন্তান।

জানা যায়, গত ২০২২ সালের ৩০শে সেপ্টেম্বরে শারমিন আক্তার তার স্বামী সুজন বড়ুয়ার সাথে লন্ডনে পাড়ি জমান। লন্ডন গমনের পর থেকে স্বামী সুজনের সাথে সম্পর্কের চিড় ধরে। স্বামীর সাথে দীর্ঘদিন কলহের কারণে হাবিব নামের আর এক বাংলাদেশির সাথে পরকীয়া সম্পর্কে জড়িয়ে যান তিনি। অনেক দিন ধরে শারমিন আলাদা থাকতেন। এই বিবাহ বহির্ভূত সম্পর্কের ফলে শারমিন অন্তসত্তা হয়ে পড়ে এবং একটা সন্তান প্রসব করে। এই সংবাদ শারমিনের পিতা-মাতার কাছে পৌঁছলে তারা শারমিনকে তাদের সাথে যোগাযোগ করতে নিষেধ করে। এর মধ্যে নিকটতম আত্মীয়ের মাধ্যমে এই সংবাদ এলাকায় ছড়িয়ে পড়লে এলাকার ধর্মপ্রাণ মুসলিম জনতা ফুঁসে উঠে। প্রথমে তারা শারমিনের পরিবারকে সামাজিক ভাবে ভয়কট করে এবং স্থানীয় মসজিদে নামাজ পড়তে নিষেধ করে। শারমিনের বাবা, চাচা ও ভাইদেরকে বাস্টার্ডের আত্মীয় বলে গালাগালি দিতে থাকে এম তারা ঘোষনা দেয় যে শারমিনের অবৈধ সন্তানকে হত্যা না করলে তাদেরকে সমাজে ঠাঁই দেয়া হবে না।

হঠাৎ গতকাল বৃহস্পতিবার কে বা কারা এই সংবাদ এলাকায় ছড়িয়ে দেয় যে শারমিন তার বাবা মা এর সাথে যোগাযোগ চালিয়ে যাচ্ছে। এই সংবাদে কুমিল্লার কোতয়ালী থানার, অশোকতালার ৭ নং ওয়ার্ডের জামের মসজিদের ইমামের নেতৃত্বে একটা মিছিল বের হয়। উক্ত মিছিলে এই বলে শ্লোগান দেয় যে “অবৈধ সন্তানের জায়গা কুমিল্লায় হবে না”। মিছিলের পরে এলাকায় একটা চাঞ্চল্যকর পরিস্থিতি সৃষ্টি হয়। এতে উক্ত এলাকার বিক্ষুব্ধলোকেরা সংঘবদ্ধ হয়ে শারমিনের পিতার বাড়িতে আক্রমণ করে এবং ভাংচুর করে। আবশেষে উত্তেজিত জনতা বাড়িতে আগুন ধরিয়ে দিলে শারমিনের বাবা-মা মারাত্মকভাবে আহত হয়। পরে এলাকার লোক শারমিনের বাবা মাকে এই বলে শাসিয়ে যায় যে যদি শারমিন দেশে ফিরে আসে, তাহলে যেন তাদের হাতে শারমিন, তার পার্টনার ও সন্তাকে কে তুলে দেয়া হয়। এলাকার লোক চলে গেলে ভাইয়েরা শারমিনের পিতা মাতাকে স্থানীয় হাসপালে ভর্তি করে এবং উক্ত হাসতালে চিকিৎসা নেয়। এই সংবাদ লেখা পর্যন্তু তারা হাসপালে চিকিৎসাধীন আছেন।

স্থানীয় মুদিদোকানদার, রমজান আলী বলেন, শুনা যায় শারমিনের বাবা হিরণ মিয়া তার সাথে যোগাযোগ চালিয়ে যাচ্ছে। এর মধ্যে এই সংবাদ এলাকায় জানাজানি হলে চাঞ্চল্যকর পরিস্থিতি সৃষ্টি হয় এবং অশোকতলা জামে মসজিদের ইমামের নেতর্ত্বে একদল বিক্ষুব্ধ জনতা জড়ো হয়ে ওদের বাড়ি আক্রমণ করে, আসবাদ পত্র ভাঙচুর করে এবং পরে আগুন ধরিয়ে দেয়।

নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক একজন আত্মীয় বলেন, শারমিন আগে একজন বৌদ্ধ ছেলেকে বিয়ে করে যা এলাকায় কেউ জানত না। পরে লন্ডনে গিয়ে আবার পরকিয়া সম্পর্কে জড়িয়ে অবৈধ সন্তান প্রসব করার সংবাদে এলাকার ধর্মপ্রাণ মুসলিমরা ক্ষুব্ধ হয়।

তিনি আরো বলেন, আক্রমন চলাকালীন সময় থানায় অনেক বার ফোন করা হলেও পুলিশ এক অজনা কারণে কোন প্রদক্ষেপ নেয়নি।

এই ব্যাপারে কাউন্সিলর আব্দুর রহমানের সাথে যোগাযোগ করলে, তিনি এই ব্যাপারে কিছু জানেন না বলে ফোন কেটে দেন। পরে অবশ্য অনেক বার ফোন করলে তিনি ফোন রিসিভ করেন নি। কাউন্সিলরের ব্যক্তিগত সচিব মোহাম্মাদ মিজানুর রহমানকে এই ব্যাপারে জিঙ্গাসা করলে তিনি কোন মন্তব্য করতে অস্বীকার করেন।

এই ব্যাপারে কুমিল্লা কোতয়ালী থানায় যোগাযোগ করলে, কোতয়ালী থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা আমাদের জানান যে এই ব্যাপারে থানায় এখন পর্যন্ত কোন মামলা হয়নি। তবে কেউ মামলা করতে আসলে ব্যবস্থা নেয়া হবে বলে থানার ওসি আমাদেরকে জানান।