
মধ্যপ্রাচ্যের যুদ্ধ অবসানে সম্পাদিত চুক্তিটিকে যুক্তরাষ্ট্রের পরাজয়ের ঘোষণা বলে অভিহিত করেছে ইরান। বুধবার (২৪ জুন) তেহরানের পক্ষ থেকে এই দাবি করা হয়, ঠিক এমন এক সময়ে যখন মার্কিন শীর্ষ কূটনীতিক তেহরানের হামলায় সবচেয়ে বেশি ক্ষতিগ্রস্ত উপসাগরীয় দেশগুলোতে এক সফর শুরু করেছেন।
গত ২৮ ফেব্রুয়ারি ইরানের ওপর যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরাইলের ব্যাপক বিমান হামলার মাধ্যমে যে যুদ্ধের সূচনা হয়েছিল, তার সমাপ্তি ঘটলো এমন এক চুক্তির মাধ্যমে, যাকে ইরানের নেতারা নিজেদের বিজয় হিসেবে প্রতিষ্ঠা করার চেষ্টা করছেন। এই সংঘাত পুরো অঞ্চলে ব্যাপক বিশৃঙ্খলা সৃষ্টি করেছিল, যার জবাবে তেহরান জ্বালানি পরিবহনের গুরুত্বপূর্ণ জলপথ অবরোধ করে এবং উপসাগরীয় প্রতিবেশী দেশগুলোর ওপর হাজার হাজার ড্রোন ও ক্ষেপণাস্ত্র হামলা চালায়।
গত সপ্তাহে যুক্তরাষ্ট্র ও ইরান এই চুক্তিতে স্বাক্ষর করে একটি স্থায়ী সমাধানের লক্ষ্যে প্রক্রিয়া শুরু করেছে, যেখানে ইসলামি প্রজাতন্ত্রটির শীর্ষ নেতৃত্বে বড় পরিবর্তন এলেও শাসনব্যবস্থা আগের মতোই সুদৃঢ় রয়েছে।
পাকিস্তানের মধ্যস্থতায় চূড়ান্ত হওয়া এই চুক্তি প্রসঙ্গে ইরানের প্রধান আলোচক মোহাম্মদ বাঘের গালিবাফ বুধবার বলেন, ইসলামাবাদের এই সমঝোতা কোনো চাপ বা জবরদস্তির ফল নয়, বরং এটি বীর ইরানি জাতির প্রতিরোধ ও কর্তৃত্বের ফসল। আর এই কারণেই ইসলামাবাদের এই সমঝোতা স্মারকটি আমেরিকার পরাজয়ের ঘোষণায় পরিণত হয়েছে। সেই সঙ্গে তিনি স্পষ্ট করে দেন যে মধ্যপ্রাচ্যের নিরাপত্তা এই অঞ্চলের দেশগুলোকেই নিশ্চিত করতে হবে।
এদিকে মধ্যপ্রাচ্যে যুক্তরাষ্ট্রের বেশ কয়েকটি সামরিক ঘাঁটি রয়েছে, বিশেষ করে উপসাগরীয় অঞ্চলে। সেখানে মিত্রদের আশ্বস্ত করতে বুধবার সফর শুরু করেছেন মার্কিন পররাষ্ট্রমন্ত্রী মার্কো রুবিও।
মঙ্গলবার (২৩ জুন) সংযুক্ত আরব আমিরাতে পৌঁছানো রুবিও দেশটির নেতা শেখ মোহাম্মদ বিন জায়েদের সঙ্গে রুদ্ধদ্বার বৈঠক করার পাশাপাশি কুয়েত ও বাহরাইনে উপসাগরীয় সহযোগিতা পরিষদের (জিসিসি) বৈঠকে যোগ দেবেন।
রুবিও জানান, তিনি উপসাগরীয় নেতাদের সঙ্গে এই সমঝোতা স্মারক নিয়ে আলোচনা করতে চান, যেখানে ইরানের ক্ষেপণাস্ত্র কর্মসূচি এবং প্রক্সি বা আঞ্চলিক মিত্রদের বিষয়ে কোনো উল্লেখ নেই—যা উপসাগরীয় দেশ ও ইসরাইলের জন্য দীর্ঘদিনের উদ্বেগের বিষয়।
জলপথের বিষয়ে মার্কিন পররাষ্ট্রমন্ত্রী জোর দিয়ে বলেন, ওমান ও ইরান হরমুজ প্রণালি দিয়ে চলাচলের জন্য খরচ আদায়ের কথা বিবেচনা করলেও কোনো দেশকে আন্তর্জাতিক এই জলপথে টোল আরোপ করতে দেওয়া হবে না। আবুধাবিতে পৌঁছে যুদ্ধের শুরু থেকে যুক্তরাষ্ট্রের অবস্থান পুনর্ব্যক্ত করে তিনি বলেন, এটি একটি আন্তর্জাতিক জলপথ এবং বর্তমান আন্তর্জাতিক আইন অনুযায়ী কোনো দেশই এখানে টোল বা ফি আদায় করতে পারে না।
আপনার মতামত লিখুন :