নবজাতক সন্তানের মরদেহ নিয়ে বাড়ি ফেরার পথে অবাক বাবা!


বাংলাদেশের কণ্ঠ ডেস্ক প্রকাশের সময় : অগাস্ট ৮, ২০২৩, ১০:১৯ অপরাহ্ন /
নবজাতক সন্তানের মরদেহ নিয়ে বাড়ি ফেরার পথে অবাক বাবা!

নবজাতককে ‘মৃত’ ঘোষণা করেন চিকিৎসক। দেওয়া হয় মৃত্যুসনদও। এরপর মরদেহ নিয়ে হাসপাতাল থেকে বাড়ি ফেরার পথে নড়ে উঠে নবজাতকটি। জানান দেয়, বেঁচে আসে সে। ফের হাসপাতালে শিশুটিকে ভর্তি করেন স্বজনরা।

এমন ঘটনা ঘটেছে ময়মনসিংহ মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে। আর এতে চাঞ্চল্যের সৃষ্টি হয়েছে। কেউ এটি অলৌকিক, আবার কেউ প্রশ্ন তুলছেন কর্তব্যরত চিকিৎসকের দায়িত্ব নিয়ে।

জানা গেছে, ময়মনসিংহের ত্রিশালের কানিহারী ইউনিয়নের বড়মা এলাকার বাসিন্দা মাদরাসা শিক্ষক সাইফুল ইসলাম তার স্ত্রী হালিমা খাতুনকে রোববার (৬ আগস্ট) ভর্তি করেন ময়মনসিংহ মেডিকেলের গাইনি ওয়ার্ডে। ওইদিন রাতে স্বাভাবিক প্রসবে (নরমাল ডেলিভারি) কন্যা সন্তানের জন্ম দেন হালিমা। কিন্তু নবজাতকের ওজন ছিল মাত্র ৯০০ গ্রাম। গর্ভাবস্থার মাত্র সাত মাসের মাথায় জন্ম নেওয়া নবজাতককে নবজাতক পরিচর্যা কেন্দ্রে (এনআইসিইউ) ভর্তি করা হয়। সেখানে চিকিৎসাধীন অবস্থায় মঙ্গলবার বেলা ১১টায় মৃত ঘোষণা করে মৃত্যু সনদ দেন নিউনেটোলজি বিভাগের সহকারী রেজিস্ট্রার। মৃত্যু সনদে উল্লেখ করেন অত্যন্ত কম ওজন ও সময়ের পূর্বে জন্ম নেওয়ায় মৃত্যু হয়েছে।

মৃত্যুর খবর পেয়ে বেলা সাড়ে ১২টার দিকে নবজাতকের মরদেহ গ্রহণ করে নিয়ে যান বাবা সাইফুল। সিএনজিচালিত অটোরিকশা দিয়ে যাওয়ার পথে সদরের চুরখাই এলাকায় যেতেই নবজাতক নড়াচড়া করে উঠে এবং নিঃশ্বাস নিতে শুরু করে। ওই অবস্থায় সিএনজি চালিত অটোরিকশা ঘুরিয়ে ফের দুপুর ২টার দিকে ময়মনসিংহ মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের জরুরি বিভাগে নেওয়া হয়।

নবজাতকের বাবা সাইফুল ইসলাম বলেন, আজ বেলা ১১টার দিকে আমার মা আর ফুফুকে জানানো হয় বাচ্চা মারা গেছে, তাকে বাড়ি নিতে যেতে। বিষয়টি আমাকে জানানোর পর আমি ত্রিশাল থেকে হাসপাতালে ছুটে এসে মৃত্যুর সনদ নিয়ে হাসপাতাল ত্যাগ করি। এরপর অর্ধ রাস্তায় যেতেই হঠাৎ আমার বাচ্চাটি নড়ে উঠে এবং দেখি বড় করে শ্বাস নিচ্ছে। পরে গাড়ি ঘুরিয়ে আবারও হাসপাতালের এনে ভর্তি করি। এখন যাতে তারা গুরুত্ব দিয়ে চিকিৎসার মাধ্যমে আমার বাচ্চাকে বাঁচিয়ে তোলেন, সেই আবেদন জানাই।

এদিকে জরুরি বিভাগে নেওয়া হলে নবজাতককে হাইফো অক্সিজেনসহ প্রয়োজনীয় চিকিৎসা দিয়ে এনআইসিইউতে স্থানান্তর করে জরুরি বিভাগের কর্তব্যরত চিকিৎসক ডা. মাহবুব হোসাইন।

তিনি বলেন, মাঝে মাঝে শিশুটি খিঁচুনি দেওয়ায় তাকে আবারও এনআইসিইউতে পাঠানো হয়। তবে পালস ও হার্ট দেখে শিশুটি বেঁচে আছে মনে হয়নি।

হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ বলছে, শিশুটিকে সর্বোচ্চ গুরুত্ব দিয়ে চিকিৎসা দেওয়া হচ্ছে। হচ্ছে তদন্ত কমিটিও। মমেক হাসপাতালের উপ-পরিচালক ডা. জাকিউল ইসলাম বলেন, নবজাতককে গুরুত্ব সহকারে চিকিৎসা দেওয়া হচ্ছে। বিষয়টি নিয়ে তিন সদস্য বিশিষ্ট তদন্ত কমিটি গঠন করা হচ্ছে। তদন্ত প্রতিবেদন পেলে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।